দাম্পত্যজীবনের সমাপ্তি ঘটাতে ডিভোর্স


র্তমান সময়ে এসে দাম্পত্যজীবনের সমাপ্তি ঘটাতে ডিভোর্স (তালাক) মারাত্মক একটি ব্যাধি হয়ে দাড়িয়েছে। একটা সময় উক্ত ডিভোর্সের মূল কারণ ছিলো- স্বামী কিংবা স্ত্রীর মধ্যে যে কোনো একজনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে আরো নতুন কিছু নেতিবাচক বিষয় সংযুক্ত হয়েছে। বিশ্লেষণ করলে এর কারণ অনেক। তার মধ্যে বর্তমান সময়ের প্রচলিত উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো-


একটা সময় ছেলেরা জানতো- ভদ্র, ধার্মিক এবং চরিত্রবান হলে বিয়ের বাজারে তার কদর সব চেয়ে বেশি হবে। তাই অর্থ-সম্পদ এবং ক্যারিয়ার গড়ার পেছনে না দৌড়ে দৌড়াতো ধার্মিকতা, ভদ্রতা, নৈতিক শিক্ষা ও চরিত্রবান হওয়ার পেছনে। তারা আদর্শ ও উন্নত চরিত্রের সমন্বয়ে গড়তে চাইতেন নিজেদের জীবনকে। নিজেদের জীবন ও যৌবনের হেফাজতে সর্বদা সোচ্চার থাকতো।

অপরদিকে বিত্তশালী কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক বাবা তার মেয়ের জন্য এমন ছেলে খুঁজতেন যার মাঝে নৈতিক শিক্ষা ও নৈতিক চরিত্র রয়েছে। অর্থ-সম্পদ না থাকলেও কোন সমস্যা ছিল না এবং কিঞ্চিত পরিমাণও মাথা ব্যথা হতো না। কারণ তারা এটা জানতো যে, ছেলে যতই বেকার বা দরিদ্র হোক; একটা ভালো ছেলের হাতে দিলে'ই মেয়ে সুখী হবে৷


কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বিপরীত। বেড়েছে চাহিদা এবং চাহিদা বাড়লেও সেসমস্ত চাহিদার মাঝে রয়েছে নেতিবাচক উপস্থিতি। যা বর্তমান সময়ে সকলের কাছে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ফলে বর্তমান এমন পরিস্থিতির সাথে টেক্কা দিতে নিজেদের ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্র গঠনে উদ্বুদ্ধ না হয়ে অর্থ সম্পদের পাহাড় গড়তে রাত দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এতে করে ভুলে গিয়েছে তাদের আদর্শবান হতে হবে।

আর তাই এখনের ছেলেরা জানে টাকা-ওয়ালা হলে বিয়ের বাজারে তাদের কদর বেশি হয়। ধার্মিকতা এবং চরিত্রের পিছনে না দৌড়ে অর্থ-সম্পদ ও কোটি পতি হওয়ার পেছনে ছুটতে হবে। যার ফলে বিয়ের আগে একের অধিক প্রেম, অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক বা জ্বিনা যাই করুক, টাকার জোরে সে ভালো মেয়ে পেয়ে যাবে।

এজন্য আজ ছেলেরা ভালো হবার প্রতিযোগিতা করে না। চরিত্র রক্ষার চেষ্টাও করে না।


❝ পুরুষরা বুঝতে পেরেছে,  টাকা হলে'ই বিয়ে দু'চোখ বন্ধ করে করা যায়! ❞


উপরোক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পরিশেষে এটাই বোঝা যাচ্ছে যে, নৈতিক শিক্ষা ও চরিত্রের অবক্ষয়ের ফলে সমাজে কতশত পুরুষ-মহিলা পরকীয়ায় লিপ্ত। যার ফলে সংসার এবং বৈবাহিক জীবন গুলো চিরস্থায়ী ও দীর্ঘ মেয়াদি হয় না। নতুন দাম্পত্য জীবন শুরুর কয়েক মাস যেতে না যেতে'ই দাম্পত্যকলহ সৃষ্টি হতে থাকে। ঘটতে থাকে মনের অমিল। নিত্যনতুন সম্পর্কের মাঝে তৈরি হতে থাকে নানান অভিযোগ এবং যখন অভিযোগের মাত্রা অসহনীয় অবস্থায় চলে যায়, তখন দাম্পত্যজীবনে চলে আসে বিচ্ছেদ কিংবা ডিভোর্সের বিষয়টি। এভাবেই বর্তমানে ডিভোর্সের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে পত্র-পত্রিকায় ডিভোর্সের সংবাদ প্রতিনিয়ত ছাপছে। অপরদিকে সংশোধনের পরিবর্তে বিষয়টিকে উচ্চ-নেতিবাচক হিসেবে দাম্পত্য-জীবনের জটিলতা তৈরী করে বিয়ের সম্পর্কটিকে কঠিন করে তুলেছে।