ইতি শেষ বিদায়
       

প্রিয়..... 

আসসালামু আলাইকুম।

কোনো কারনে কিংবা কোনো এক স্বার্থের অজুহাতে, প্রিয় মানুষকে বিদায় নামক পত্রটি লিখার শুরুটা হয়তো সবাই এভাবে'ই করে। আমিও প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে চিরবিদায় নেওয়ার সে সব ব্যক্তিদের মাঝে একজন।


আমার এই পত্রটি পাওয়ার পর হয়তো তোমার সাথে আমার আর দেখা হবে না। দেখা না হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর দেখা না করাটাই উচিত। কারন, প্রিয় মানুষের সামনে চোখে চোখ রেখে চূড়ান্ত বিদায় দেওয়াটা বড্ড কঠিন। বলা যায় এক প্রকার অসম্ভব। এমন অবস্থায় মহা চিন্তাই পরে যেতে হতো, "তখন চোখের জল সামলাবো..নাকি দুটি হৃদয়ের বিচ্ছেদে অনলে জলতে থাকা এক বুক কষ্ট।"

সত্যি বলতে, এসব ভাবনাগুলো ভাবা দম আটকে যাওয়ার মত।

যায় হোক, লিখার মাথা অতিরিক্ত না বাড়িয়ে আমার কিছু না বলা কথা তোমাকে বলে যায়। জানি এবং বুঝি, আমার এই কথাগুলো তোমার কাছে অবহেলিত। কারন আমি মানুষটাই তো তোমার কাছে অবহেলিত। আমার প্রতি তোমার করে আসা অবহেলাগুলো তোমার জন্য যত্নে রাখা ভালোবাসার অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে গেলে'ই প্রতিনিয়ত  বাধা দিতো। তোমার করা অবহেলা বার বার বাধা দিয়ে এটাই বোঝাতে চাইতো- "থাম, থাম। অনেক হয়েছে। এসব আদেখলাপনা তোর কাছেই রাখ। তোকে যে আমার মোটেও ভালো লাগেনা, তুই কি তা বুঝিস না..?" তাই আর তোমাকে কখনো বলতে পারিনি,  যে আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। কোনো একটা বইতে যেনো পড়েছিলাম- "শত ক্লান্তি আর গ্লানি, হতাশা একনিমিষে ভুলিয়ে দিয়ে পরম শান্তির স্বর্গীয় সুখ অনুভব করাতে একজন স্বামীর উচিত তার স্ত্রীকে ভালোবাসার ডাক দিয়ে বুকে কিছুক্ষণ জড়িয়ে রাখা। এটা এক বিশুদ্ধ নিয়ামত একজন স্বামীর জন্য।"

জানো...!! বইটির লাইনগুলো পড়ার পর তখন আমারো খুব ইচ্ছে জেগেছিলো মনে, আমিও সেই স্বর্গীয় সুখের অনুভব করতে চাই। মিটিয়ে দিতে চাই আমার মাঝে বসত করা সকল ক্লান্তি আর গ্লানি। তাই একদিন অফিস থেকে ফেরার পর ব্যাগটা রেখে দৌঁড়ে ছুঁটে গেলাম তোমার কাছে। দেখলাম তুমি বেইলকুনিতে দাড়িয়ে কার সাথে যেনো মধুর স্বরে কথা বলছিলে। তারপরেও বেহায়ার মত পিছন থেকে ডাক দিতেই পিছনে ফীরে বিরক্তের ছাপ নিয়ে বললে- কি হয়েছে? কিছু বলবে?... আর তখন তোমার এমন রিয়েক্ট দেখে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে বললাম-" নাহ্, কিছু না। এমনি ডাকছিলাম। আসলে দরজা Lock করা ছিলো না। ভাবলাম তুমি হয়তো ছাদে গিয়েছো। তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডাক দিয়ে দেখলাম তুমি আসলেই ছাদে কি না। তারপর হতাশ হওয়ার অনুভূতিকে আড়াল করে মুখে একটু হাসি রেখে বললাম- "আচ্ছা, আমি ফ্রেশ হতে গেলাম।"

আসলে বলতে গেলে আরো অনেক কথা ছিলো, যা কখনো বলতে পারিনি। বার বার তোমার করতে থাকা অবহেলা আমার ভালোবাসাকে প্রতিনিয়ত নিষ্টুরের মত আঘাত করেছে। তবুও ধৈর্য হারা হোইনি এটা ভেবে যে, একদিন ঠিকিই তুমি আমার ভালোবাসা বুঝতে পারবে। তাই তো এভাবে করে প্রায় একটা বছর তোমার করা অবহেলার মাঝে নিজেকে কষ্ট করে জড়িয়ে রেখেছিলাম। কখনো তোমাকে এটা বুঝতে দেয়নি এবং কখনো এটা বলিনি- "তোমার করা নিত্যনতুন  অবহেলা আমাকে বিষণ কষ্ট দেয়।

কিন্তু আজ এক বছর পর এসে তোমার করে আসা অবহেলার কাছে আমার ভালোবাসা ধৈর্য বিফল হয়ে গেলো। তাই আজ নিজের ভালোবাসার এই পরাজয় মেনে নিয়ে তোমার কাছে চিরবিদায়ের নামে এই পত্রটি লিখে রেখে গেলাম।


অবশেষে বলবো- "যদি আমার ব্যবহার কিংবা কাজে কোনো কারনে কষ্ট পেয়ে থাকো, তাহলে ভুল মানুষ কিংবা চলে যাওয়া মানুষ মনে করে ক্ষমা করে দিও। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো, কখনো তোমার প্রতি কোনো অভিযোগ রাখবো না। শুধু তুমি ভালো থেকো। আর গত হওয়া এই একটা বছর শুধু তুমি যাতে ভালো থাকো, সেটাই আশা করেছি। আজো তাই করছি এবং আগামিতে তাই করবো ইনশাল্লাহ্।


ইতি

শেষ বিদায়...(আল্লাহ্ হাফেজ)

➤ Earn Money